২০ জুন ২০২৬ - ০৭:৫৫
লেবাননের প্রতি ইঞ্চি মাটি থেকে ইসরায়েলকে বিতাড়িত করা হবে

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত লেবাননের সব দখলকৃত এলাকা থেকে বিতাড়িত হবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বৈরুতে কেন্দ্রীয় আশুরা কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাসেম বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিরোধ আন্দোলনের আদর্শ, দৃঢ়তা এবং সংগ্রামী মনোভাবকে পরাজিত করতে পারেনি।



তার ভাষায়, “শত্রু আমাদের বিশ্বাস, অবিচলতা, ধৈর্য কিংবা মাঠে আমাদের উপস্থিতিকে পরাজিত করতে পারেনি। আমরা সব ধরনের কষ্ট ও নিষেধাজ্ঞা সহ্য করেও টিকে আছি।”

তিনি বলেন, প্রতিরোধ আন্দোলনের নীতিগুলো মানবতার অন্যতম মহৎ মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে। “আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না, আর এটিই বিজয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান। শত্রু যখন অস্ত্র নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হয়, তখন আমরাও অস্ত্র দিয়েই জবাব দিই।”

কাসেমের মতে, প্রতিরোধ নিজেই এক ধরনের বিজয়। তিনি বলেন, “দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতিটি পদক্ষেপই বিজয়।”

হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, সংগঠনটি লেবাননের সংবিধান এবং ১৯৮৯ সালের তাইফ চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, লেবাননের ভূখণ্ড মুক্ত করার লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসেনি।

তার দাবি, হিজবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করার ইসরায়েলি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত লেবাননের জনগণই দেশটির সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে দেবে।

“আমরা স্বাধীন হয়ে জন্মেছি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছি,” বলেন কাসেম। তিনি আরও যোগ করেন, “আত্মসমর্পণ ও পরাজয়ের চেয়ে বড় ক্ষতিও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে লেবাননের জন্য “সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়” হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধ আন্দোলন, এর সমর্থক জনগণ এবং লেবাননে এর অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে ফেলা।

তার অভিযোগ, ইসরায়েল আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথ বন্ধ করে প্রতিরোধ বাহিনীর কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি পৌঁছানো ঠেকাতে চেয়েছে। পাশাপাশি পুনর্গঠন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে বাস্তুচ্যুত মানুষদের দীর্ঘমেয়াদে সংকটে রাখার চেষ্টা করেছে।

কাসেম আরও দাবি করেন, লেবাননের সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টাও করা হয়েছিল, তবে সেনাবাহিনীর সচেতনতার কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

তিনি লেবাননের জনগণের প্রতি ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিজয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহর হাতেই রয়েছে।”

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার দিনের শুরুতে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেলেও পরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং আঞ্চলিক কয়েকটি পক্ষ ভূমিকা রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha